মুবারক বিলাদতে নূরে চশমে লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল উমাম, মাদানীউল আরাবী, মুজাদ্দিদে ছানী, আওলাদে রসূল হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার মুবারাক বিলাদত শরীফ ৯ই রমাদ্বান শরীফ, ১৪৩১ হিজরী উপলক্ষে নকশাকৃত ওয়ালপেপারঃ
start
নববী নূর চমকে রুপে কাওনাইন উজালা তাঁর নূরে
দাও খিদমতে জীবন সপে ॥
* তাশরিফ সরকার কাওনাইনের সজীবতা ফিরে ধরাতে
দেখ আগমন মদীনা ওয়ালারী পরশে বাতিল তাড়াতে ॥
* সোহবতী ফয়েজে মিলে ঈমান জুদাঈতে হয় বেঈমান
রহমত বাটেন শাহজাদা হয়ে নবীজির আমান ॥
ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা তাঁকেই মনোনীত করেন।” (সূরা শুরা: ১৩)
আরবী পঞ্চদশ শতাব্দী। গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। পাখিদের কণ্ঠে সুমধুর সুরের বন্যা ছড়াচ্ছে বসন্তের সমারোহ চারদিকে। ঐ জান্নাত থেকে ভেসে আসা মৃদু মৃদু হাওয়া বইছে। গোটা সৃষ্টির মাঝে ঈদের খুশির ঢেউ ছড়াচ্ছে। কি যেন এক খোদায়ী বেশুমার খুশির আমেজ। আজ সারা কায়িনাতে রহমতের সর্বত্রই ছড়াছড়ি। সেই রহমতের হিস্সা সমস্ত মাখলুকাত উপভোগ করছে। মু’মিন মু’মিনাদের অন্তরে ঈমানী জজবার ফোয়ারা। (সুবহানাল্লাহ)
আজি সারা বিশ্ব জুড়িয়া মুসলমানের চলিতেছে অত্যাচার নিপীড়নের এবং লাঞ্ছনা-গঞ্জনার ইস্টিম রোলার। ইহার বহু পশ্চাত কারণ সম্পর্কে আমরা অবগত হইলেও মূল কারণ সম্পর্কে আমরা নিতান্তই বেখবর। আর ইহা বলিবার উদ্দেশ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
হাদীছ শরীফ-এ রহিয়াছে, “যে ব্যক্তি তাহার যামানার ইমামকে না চিনিয়া ইন্তিকাল করিল সে যেন জাহিলিয়াতের যুগে ইন্তিকাল করিল।” শুধু চিনিলেই হইবে না। চিনিয়া সেই ইমাম-এর মুবারক শান-মান অনুযায়ী তা’যীম-তাকরীম করিয়া উনার পবিত্র সন্তুষ্টি লইয়া ইন্তিকাল করিতে হইবে।
মহান আল্লাহ পাক এবং তা প্রিয়তম হাবীব, মাশুকে মাওলা, রউফুর রহীম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাল্লাম উনাদের মত-পথের বিপরীত ও সাংঘর্ষিক যাবতীয় আক্বীদা, আমল, আখলাক ও রসম-রেওয়াজের মূলোৎপাটন করে হাক্বীক্বী ইসলাম ধর্ম আবাদের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরীর প্রয়োজনে আল্লাহ পাক-এর উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় ওলীআল্লাহগন উনারা দুনিয়ায় আগমন অনিবার্য। ওলীআল্লাহগণ উনাদের মধ্যে রিসালতের ধারায় ইসলামী রেনেসাঁ (তাজদীদ) এবং আধ্যাত্ম চিন্তা ও অনুশীলনের সুষ্ঠু বিন্যাসে নিরন্তর নিয়োজিত থেকে কামিয়াব হওয়ার জন্য যাঁরা মনোনীত, উনাদের মর্যাদা সমধিক। ইন্তিকাল অবধি দুনিয়ার প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশে উনাদের কর্মপরিধিও ব্যাপকতর।
কি হলো আজ? আজ কিসের এত আনন্দ আকাশ-বাতাস ত্রিভূবন জুড়ে? আজ চাঁদের কেন এত উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা? কিসের আনন্দে চাঁদের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটায় গোটা পৃথিবী মুহূর্তে আলোকিত হয়ে গেল? আজ কি তবে জ্যোৎসনার রাত! না-না ! তা কি করে হয়, আজতো চাঁদের নয় তারিখ। পবিত্র নয়ই রমাদ্বান শরীফ।
এমনি মুহূর্তে সংবাদ এলো: আজ ‘ইয়াওমুল আযীম’ তথা ‘মহান দিন’। আজ নূরী শাহজাদা আক্বা ধরণীর বুকে তাশরীফ এনেছেন। সমস্ত কাওনাইন আজ শাহজাদা আক্বার মুবারক বিলাদত শরীফে আনন্দে মুখরিত হয়ে আহলান-সাহলান জানাচ্ছে। যার আগমনে এ আনন্দ নিশ্চয়ই তিনি সাধারণ ব্যক্তিত্ব নন, অবশ্যই তিনি আল্লাহ পাক-এর পক্ষ থেকে মনোনীত এক মহান ব্যক্তিত্ব। তিনিই যে ভূবন জয়ী বীর ‘শাহজাদা আক্বা’। সারা কায়িনাতের খলীফা তা সহজেই অনুমেয়। তদুপরি তিনি রসূলে আ’লার শ্রেষ্ঠ আওলাদ এবং বর্তমানে আল্লাহ পাক উনার সবচেয়ে বড় নিয়ামত, মুজাদ্দিদে আযম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার লখতে জিগার।
আরশে মুয়াল্লায় স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি আজ কার ছানা-ছিফতে মুখোরিত! মসজিদে নববী শরীফ-এ কার আগমনী বার্তার প্রতিধ্বনী! নবী-রসূল আর আউলিয়া কিরামগণ কার ছলাত ও সালাম পাঠ করছেন? আসমানে কিসের আনন্দে ফেরেশতাদের ছুটাছুটি! জান্নাত সেজেছে এক অপরূপ সাজে! হুর গিলমানদের গুনগুনানি ! কায়িনাত আজ কার ইশকের তামান্নায় মাতোয়ারা!
আল্লাহ পাক উনার দ্বীন ইসলামকে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতকে জারী করতে সৃষ্টি জগতকে আলোকিত করে যমীনে তাশরীফ নিয়েছেন আউলিয়াকূল শিরোমণি, ইলমে শরীয়ত-তরিকত-মা’রিফত-হাকীকতের অনির্বাণ প্রদীপ, সদাদীপ্ত পরশমণি প্রাণের আঁক্বা হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।
বেশুমার ছলাত-সালাম মামদূহ ছানী শাহযাদা আক্বার মুবারক চরণে। বেশুমার দুরূদ ও সালাম উনার বরকতময় স্মরণে। আহলান-সাহলান জানাই উনার মুবারক বিলাদত শরীফ-এ। অসংখ্য মুবারকবাদ জানাই উনার রহমতী তাশরীফে। দোয়া মাগি, রহম চাই উনার মুবারক ক্বদমে। যেন লিখতে পারি উনার শান এ অধমে।
৯ই রমাদ্বান। ইশা ওয়াক্ত ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি (সোমবার শরীফ) খোদ আল্লাহ তায়ালা উনার আপন কুদরতী কায়দায় নূর বিচ্ছুরণ করছেন তামাম আলমে। হাবীবে নূরে আজ পুরো কায়িনাত হয়েছে জ্বলমলে। আরশে আলা হতে তাহতাচ্ছারাতে প্রাণঢালা অভিনন্দন। অতি মুহব্বত ও আনন্দের মহা জোশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!





